Tech

ইউটিউব চ্যানেল নিরাপদ রাখার উপায়? YouTube Channel Security

YouTube Channel Security- আমি মনে করি আপনি একজন ইউটিউবার। আপনার একটি ইউটিউবে চ্যানেল রয়েছে। যেটি আপনি নিজের সিকিউরিটি তে রাখতে চাচ্ছেন। যাতে করে অন্য কেউ আপনার চ্যানেল টি নিয়ে নিতে না পারে আপনার অজান্তেই। হ্যাঁ বন্ধু, আপনি সঠিক যায়গায় এসেছেন। আজকে আমি আপনাদের কে জানাবো। কিভাবে একটি ইউটিউব চ্যানেলকে যথেষ্ট নিরাপদ রাখবেন। এই নিয়ে আমি যা যা পয়েন্ট ফলো করতে বলবো তা যদি আপনি করেন। তাহলে নিরাপত্তার জন্য পরে আর চিন্তা না করলেও হবে।

 

ইউটিউব চ্যানেল নিরাপত্তা

প্রথম ধাপ: এর জন্য আপনাকে প্রথমেই আপনার জিমেইল একাউন্ট এ প্রবেশ করতে হবে। অনেকে বলতে পারেন। ভাই কিভাবে সেখানে প্রবেশ করবো। এর জন্য নিচে একটি ছবি দেওয়া হলো এবং আমিও আপনাদের কে বলে দিচ্ছি। এটা মুলতো আমি ২ ভাবে চেষ্টা করে থাকি। জিমেইল একাউন্ট এ যাওয়ার জন্য সরাসরি গুগলে গিয়ে সার্চ করুন। My Account লিখে। বা গুগলের উপরের ডান পাশে প্রোফাইল আসবে সেখানে ক্লিক করুন। এবার আপনার দেওয়া পাস এবং জিমেইল দিয়ে লগইন করুন।

সফল ভাবে নিজের একাউন্টে ঢুকার পরে Home থেকে Personal Info তে ক্লিক করুন। এবার যা যা দেখতে পাচ্ছেন। সেখানে নিজের সঠিক BIRTHDAY তারিখ প্রভাইড করুন। এছাড়াও পাস এ ক্লিক করে একবার হলেও নিজের নিরাপত্তার জন্য কঠিন Pass ব্যবহার করুন। কিভাবে নিজের Pass কে কঠিন করে তুলবেন। সেটি এখন বলছি। প্রথমতো পাস দেওয়ার আগে সেটা আপনি মনে রাখতে পারবেন কি না। তা ভালো করে ভাবুন। তবে এটা মনে রাখবেন। আপনার পার্সোনাল Pass কখনো বিভিন্ন যায়গায় লেখে রাখবে না যেনো। এতে যে কেউ জেনে যেতে পারে।

নিজের মনের মধ্যে সেইভ রাখুন। যতটা সম্ভব কারো চোখের সামনে যেনো না পরে। এবার মিনিমাম ১২-১৪ ডিজিটের Pass ব্যবহার করুন। কিভাবে পাস গুলো লিখবেন ঘুরিয়ে পেচিয়ে তা নিচে উদাহরণ হিসেবে দেখানো হলো-

 

YouTube Channel Security

 

আমি আবার বলছি। এটি ভুলে গেলে কিন্তু নিজের পরেবর্তিতে লগইন করতে সমস্যায় পরবেন। সর্বোচ্চ সিন্ধুকে লুকিয়ে রাখার জন্য একটা নোটপ্যাড এ লিখে রাখতে পারেন। এর পরে এই কাজটি শেষ হলে আমরা চলে যাবো পরের স্টেপে।

২য় ধাপ: এর পরে দেখবেন Contact Info বলে এই অপশন টি তে ক্লিক করে একটি পার্সোনাল ইমেইল ব্যবহার বা যুক্ত করুন। যাতে পরবর্তী তে পাস ভুলে গেলে এটির মাধ্যমে ব্যাকাপ নিতে পারেন। আর হ্যাঁ নিজের মোবাইল নাম্বার টিও এড করতে ভুলবেন না।

৩য় ধাপ: আপনার একাউন্টে কেউ প্রবেশ করেছিলো কিনা সেটির এক্টিভিটি চেক করতে পারেবন। এবং সেটি সঠি আপনার সন্ধেহ হয়। তবে এখান থেকে নিশ্চিত হয়ে নিতে পারেন। এর জন্য চিলে যান Data & Personalization এখানে থেকে Activity Controls এর নিচের অপশন গুলো খেয়াল করুন।

 

Web & App Activity

এখানে গিয়ে দেখতে পারবেন। এই একাউন্ট এ লগইন করে আপনি কোথায় কোথায় বা কোন অ্যাপ ও ওয়েবসাইট এ প্রবেশ করেছেন। আপনার যদি মনে মনে হয় এমন কোন সাইটে আওঅঅনি ভিজিট করেন নাই বা সন্ধেহ মনে হয়। এতে ভাববেন আপনার আইডি অন্য কারো আন্ডারে চলে গেছে।

Location History

এটি হলো লোকেশন চেক করার দাড়ুন উপায়। এখানে প্রবেশ করে জানতে পারবেন। কোন কোন লোকেশনে আপনার আইডিটি লগইন করা আছে। যেহেতু আপনি আছেন এক যায়গায়। এতে আপনার একাউন্ট লোকেশন যদি দেখায় আরেক যায়গায়। তাতে নিশ্চিত আপনার একাউন্ট অন্য কারো হাত্র চলে গেছে।

 

YouTube History

ইউটিউব সার্চ করেন না এমন কেউ নাই। যারা ইউটিউব ব্যবহার করে থাকেন। এতে আপনিও পিছিয়ে নেই। যার কারনে কেউ যদি আপনার জিমেইল দিয়ে তার ফোনে বা কম্পিউটার ডিভাইসে ইউটিউব এ গিয়ে কিছু সার্চ করে থাকে। এতে আপনি নিজেই তা দেখে নিতে পারবেন। যেমন টা আমি আমার একাউন্ট থেকে দেখতে পাই। এতে অবশ্যই আপনি বুঝে গেছে আমি কি বুঝাতে চাইছি। এটা হলো যে আপনি যখন এটা চেক করবেন। আপনি সার্চ করেন নি এমন কিছু অই সার্চ হিস্ট্রি তে দেখাচ্ছে। এতে ভাবনার বিষয় এটা কিভাবে সম্ভব। তার মানে সেটাই হয়েছে যেটা আপনি এখন ভাবছেন। হ্যাঁ বন্ধু আপনার চ্যানেলটি নিজের সাথে অন্য কেউ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করছে।

Note: এগুলা লক্ষ্য করার পরে। যত দ্রুত সম্ভব Pass পরিবর্তন করুন। কঠিন Pass ব্যবহার করুন।

তবে যাই হওক। এখন আমি আপনাদের সবচেয়ে সেটা প্রয়োজনীয় একটা ট্রিকস বলবো। কিভাবে নিজের একাউন্ট সিকিউর আরো শক্তিশালী করবেন।

 

ধাপ ৪: এর জন্য চলে যান Security অপশনে। এখানে গিয়ে এটা দেখতে পারবেন যে আপনার একাউন্টের পাস কবে এবং কখন সর্বশেষ চেঞ্জ করেছিলেন। যদি আপনার চেঞ্জ করার সাথে না মিলে। এতে অবশ্যই আপনার আবার নতুন করে চেঞ্জ করে নিতে হবে সন্দেহ দূর করার জন্য।

তবে যেটা না বললেই নয়। এটার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি বলে আমি এবং গুগল নিজেই মনে করেন। সেটা হলো ( 2-Step Verification) এটি এমন একটা অপশন। যার ফলে আপনার একাউন্টের জিমেইল এবং পাস জানলেও কেউ একাউন্ট টি নিতে পারবেন না। যত পর্যন্ত আপনার নাম্বারে আশা গোপন কোডটি কাউকে না দিয়ে থাকেন।

 

 

এটা কিভাবে এনেবল করেবন?

এটি চালু করার জন্য অপশন টিতে ক্লিন করুন। নিজের আইডিতে লগইন করুন। এবার উপর থেকে Turn ON এ ক্লিক করুন। নিচে এসে Voice or Text Message এ অপশনে আসুন। Add Phone এ ট্যাপ করুন। এবার দেখবে আপনার পার্সোনাল একটা ফোন নাম্বার চাইবে। আমি আপনাদের বলে দেই আগেই। এখানে যে নাম্বার টি ব্যবহার করবেন। সেটি যেনো ১০০% নিজের পার্সোনাল ফোন নাম্বার হয়ে থাকে। ভুলেও অন্যের নাম্বার ব্যবহার করবেন না।

এবার নাম্বার টি যুক্ত করে Text message বা Phone Call এ ক্লিক করে Done করে দিন। যদি প্রথম টা তে ক্লিক দেন। তাহলে আপনার ফোনে গোপন একটি কোড আসবে Sms আকারে। আর যদি ২য় টাতে ট্যাপ করে থাকেন। এতে ফোন কল এসে আপনাকে একটি সিক্রেট কোড বলে দিবে। যেটা আপনি আবার এখানে বসাবেন যখন চাইবে।

এর পরে আপনার মূল কাজটি সম্পুর্ণ। যার ফলে আপনি YouTube Channel Security  এর জন্য একটি নিরাপদ একাউন্ট পেয়ে যাচ্ছেন।

সর্বশেষ স্টেপ এটি অবশ্যই জেনে রাখুন-

ধাপ ৫: এখন চার নাম্বারে যে কাজটি দেখালাম এর পরে অপশন টি দেখবেন Backup Codes বলে একটি আপশন রয়েছেন। এখানে ক্লিক করে Save your Backup codes বলে নিচে ১০ টি ৮ ডিজিটের কোড প্রভাইড করা থাকবে। যেগুলা আপনি আপনার ফোনে স্ক্রিনশট, ডাউনলোড এবং প্রিন্ট করা সহ নানা উপায়ে সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন। কোডটি চেঞ্জ করার জন্য নিচে থেকে Get New Codes এ ক্লিক দিন। কোড চেঞ্জ হবে। এর পরে ক্লস করে দিন পেজটি। যদি লাস্ট কোড গুলো সংরক্ষণ না করে রাখেন। তাহলে কিন্তু আগের কোড গুলো কাজ করবে না। প্রত্যেক টা ৮ ডিজিটের কোড একটা করে ব্যবহার করতে পারবেন।

এখন আসি কিভাবে কোড গুলো ব্যবহার করবেন। যখন আপনার একাউন্টে নিজেই ঢুকিয়ে পারছেন না না অন্য কেউ পাস চেঞ্জ করে দখল করে বসেছে। সেই মুহুর্তে গুগল আপনালে একটি সুযোগ দিবে। এই যায়গায় থেকে যেকোন ৮ ডিজিটের মাত্র ১ টি সিরিয়াল অখানে বসিয়ে দিলেই গুলল জেনে ফেলবে কে অরিজিনাল মালিক। এতেই আপনি আপনার হারানো আইডি বা একাউন্ট ফিতে ফেতে সক্ষম হবে।

বন্ধুরা আজকে অনেক কথা বলে ফেলেছি। পরবর্তীতে আরো ভালো কিছু নিয়ে আসবো। আজকের পোস্টি কেমন হয়েছে। কমেন্টে বক্সে জানালে খুশি হবো। ধন্যবাদ….

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button